উপোসথ গাইড ও নোট (পাঠ ২)

সপ্তম শ্রেণি — মাধ্যমিক - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব | NCTB BOOK
617

উপোসথ ভিক্ষু এবং গৃহী উভয়ের পালনীয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উপোসথের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। বৌদ্ধরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে উপোসথ পালন করেন। ধর্মময় উৎকৃষ্ট জীবন গঠনের জন্য বুদ্ধ উপোসথের প্রবর্তন করেছিলেন। উপোসথ পালনে ধর্মানুভূতি জাগ্রত হয়। কায়-মন-বাক্য এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় সংযত হয়। তাই সকলের উপোসথ পালন করা উচিত।

উপোসথের পটভূমি

একসময় বুদ্ধ রাজগৃহের গৃধ্রকূট পর্বতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় অন্যান্য তীর্থিক সম্প্রদায়ের পরিব্রাজকগণ চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হয়ে ধর্মালোচনা করতেন। জনসাধারণ তাঁদের কাছে ধর্ম শ্রবণের জন্য উপস্থিত হতেন। তাঁদের শ্রদ্ধা ও সৎকার করতেন। ফলে তীর্থিক পরিব্রাজকগণ জনগণকে তাঁদের পক্ষভুক্ত করে নিতেন। একদিন মগধরাজ বিম্বিসার নির্জনে ধ্যানাবিষ্ট থাকার সময় তাঁর মনে এরূপ চিন্তা উদিত হয়: 'এখন অন্যান্য তীর্থিক পরিব্রাজকগণ চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হয়ে ধর্মালোচনা করছেন। জনসাধারণ ধর্ম শ্রবণের নিমিত্ত তাঁদের নিকট উপস্থিত হচ্ছেন। তাঁদের শ্রদ্ধা ও সৎকার করছেন। ভিক্ষুগণও চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হলে ভালো হয়।' এভাবে তিনি ভিক্ষুদের ধর্ম-বিনয় পালনের সময় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার কথা ভাবলেন। অতঃপর তিনি বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে অভিবাদনপূর্বক বুদ্ধকে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

বুদ্ধ মগধরাজ বিম্বিসারের আবেদন গভীরভাবে উপলব্ধি করেন এবং তাঁকে ধর্মদেশনা করেন। ধর্মবাণী শ্রবণ করে রাজা বিম্বিসার মৈত্রীচিত্তে প্রাসাদে গমন করেন। তারপর ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে আহ্বান করে চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হয়ে উপোসথ পালন, উপোসথে ধর্মালোচনা ও পাতিমো আবৃত্তির নির্দেশ দেন। তখন থেকে উপোসথের প্রচলন শুরু হয়। বুদ্ধ অত্যন্ত পরিমিত আহার করতেন। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে তাঁর কখনো আতিশয্য ছিল না। তিনি ভিক্ষুসংঘকেও পরিমিত আহারের উপদেশ দিতেন। সূত্রপিটকের মঝিম নিকায়ের 'কীটাগিরি' সূত্রে দেখা যায় বুদ্ধ তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের উদ্দেশ্য করে বলছেন, 'হে ভিক্ষুগণ! আমি রাতের আহার ছেড়ে দিয়েছি। তাতে আমার শরীরের অসুখ ও জড়তা কমে গেছে। শরীরের কর্ম শক্তি বেড়েছে। চিত্তে প্রশান্তভাব এসেছে। হে ভিক্ষুগণ! তোমরাও এভাবে চলবে। তোমরা যদি রাতের আহার ছেড়ে দাও তাহলে তোমাদের শরীরে রোগ সমস্যা কম হবে। শরীরের জড়তা কমে যাবে। সুস্থ থাকবে এবং তোমাদের চিত্তে স্থিরতা আসবে।'
সেই সময় থেকে ভিক্ষুদের মধ্যে এক বেলা আহার করার নিয়ম প্রবর্তন হয়। তা গ্রহণ করতে হয় মধ্যাহ্নের মধ্যে। দুপুর বারোটার আগে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এ নিয়ম নিয়ত পালন করেন। ভিক্ষুদের অনুসরণ করে গৃহীরাও উপোসথ তিথিতে এ নিয়ম অনুশীলন করেন। উপোসথ দিনে গৃহীরা দুপুর বারোটার মধ্যে আহার শেষ করেন এবং পরদিন সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন না।

উপোসথ ও উপবাসের মধ্যে পার্থক্য

উপোসথ' শব্দটি 'উপবাস' শব্দ থেকে উদ্ভূত। বৌদ্ধরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথির উপোসথে উপবাসব্রত পালন করেন। প্রতিদিন তিনবেলা আহার মানুষের নিত্য নৈমিত্তিক অভ্যাস। মাঝে মাঝে উপবাস করে শরীরে খাদ্যদ্রব্যের উপযোগিতা অনুভব করা যায়। এ ছাড়া এর মাধ্যমে দরিদ্র অভুক্ত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা যায়। তাই অনেকের কাছে উপবাস উপোসথের প্রধান অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়।
উপোসথব্রতে বৌদ্ধরা উপবাস পালন করলেও বৌদ্ধধর্মে উপোসথ অর্থ কেবল উপবাস বা খাদ্য-দ্রব্য গ্রহণ হতে বিরত থাকা বোঝায় না। উপোসথের সাথে ধর্মানুশীলন, শীল পালন, ধ্যান-সমাধি চর্চা ও সংযত জীবনযাপনের বিষয়টিও ঘনিষ্টভাবে জড়িত। উপোসথ পালনকারীদের বিনয় বিধান অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনে ব্রতী হতে হয়। কিন্তু কেবল উপবাসের ক্ষেত্রে এ বিধি পালনীয় নয়। যেমন, উপোসথ দিবসে বিহারে ভিক্ষুগণ পাতিমোক্স আবৃত্তি, ধর্ম-দেশনা, ধর্মালোচনা এবং ধ্যান-সমাধি চর্চা করে দিন অতিবাহিত করেন। গৃহী বৌদ্ধরা উপোসথ দিবসে বিহারে গিয়ে নানারকম ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। সাধারণত গৃহী বৌদ্ধরা পঞ্চশীল পালন করেন। কিন্তু উপোসথ দিবসে তাঁরা অষ্টশীল গ্রহণ করে উপবাস পালন করেন। যাঁরা উপোসথ পালন করেন তাঁদের উপোসথিক বলা হয়। উপোসথিকরা ধর্ম শ্রবণ ও ধ্যান-সমাধি চর্চা করেন। সংযত জীবনযাপন করেন। অকুশল কর্ম হতে বিরত থাকেন। শ্রদ্ধাচিত্তে দান প্রদান করেন। অতএব বৌদ্ধদের কাছে উপোসথ শুধু উপবাস থাকা নয়। শীল পালনের ব্রত গ্রহণ করে চিত্ত শুদ্ধ করাই আসল লক্ষ্য। চিত্তকে শুদ্ধ করতে পারলে তৃষ্ণাকে ক্ষয় করা সম্ভব। তৃষ্ণা ক্ষয় হলে লোভ-দ্বেষ-মোহের উচ্ছেদ হয়। এতে দুঃখমুক্তি সম্ভব হয়। দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করাই মূলত বৌদ্ধদের জীবনের পরম লক্ষ্য। তাই উপোসথ এবং সাধারণ উপবাসের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

বৌদ্ধ বিহারে ভিক্ষু গৃহীদের ধর্মোপদেশ দান করছেন

উপোসথ পালনের নিয়মাবলি

উপোসথ পালনকারী গৃহীদের অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। উপোসথ গ্রহণেচ্ছুক উপাসক-উপাসিকাগণ উপোসথ দিবসে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। প্রাতঃকৃত্যসহ স্নানাদি শেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধানপূর্বক পূজা ও দানের উপকরণ নিয়ে পবিত্র মনে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের গুণরাশি স্মরণ করতে করতে সংযতভাবে বিহারে যাওয়া সমীচীন। বিহারে পৌঁছে পূজা ও বন্দনার কাজ সম্পাদনের পর ভিক্ষুর কাছ থেকে উপোসথ শীল গ্রহণ করবেন। কোনো কারণে বিহারে উপস্থিত হতে না পারলে গৃহে উপোসথ শীল গ্রহণ করা যায়। উপোসথ শীল গ্রহণের পর সুসংযতভাবে জপমালায়, ধর্মগ্রন্থে, ধর্মালোচনায় বা ধ্যানে চিত্তকে নিবিষ্ট রাখা কর্তব্য। লোভ, দ্বেষ, মোহ, বিলাসিতা প্রভৃতি ত্যাগ করে প্রতিটি মুহূর্ত ধর্ম ও কুশল চিন্তা করে অতিবাহিত করা উচিত। চলাফেরায়, অবলোকনে এবং ভাষণে সংযতভাব বজায় রাখতে হবে। প্রাণিহত্যা, চুরি বা অদত্ত বস্তু গ্রহণ, অব্রহ্মচর্য আচরণ, মিথ্যা ভাষণ, নেশাদ্রব্য গ্রহণ, বিকাল ভোজন, নৃত্য-গীত-বাদ্যে প্রমত্ততা দর্শন এবং অলঙ্কার ও সুগন্ধ দ্রব্য ব্যবহার, উচ্চশয্যা ও মহাশয্যায় শয়ন প্রভৃতি হতে বিরত থাকতে হবে। সকল প্রাণীর প্রতি দয়াশীল আচরণ করতে হবে। অতঃপর উপোসথিকের এরূপ অধিষ্ঠান করা উচিত।

'আমি কারও অনিষ্ট কামনা করব না। কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেব না। কষ্ট প্রদানের কারণও হব না। নিজেও অনাচার, অত্যাচার করব না, এর কারণও হব না। পরের ধনে লোভ করব না। কারও লাভ-সৎকারের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হব না, বরং সাধুবাদের সাথে তা অনুমোদন করব। কোনো প্রকার মিথ্যা বিষয়ের পরিকল্পনা করব না। গৃহকর্ম বিষয়ে আলোচনায় রত হব না। গৃহীজনোচিত আচার-আচরণ থেকে মুক্ত থাকব। শুধু ধর্মশ্রবণ, ধর্মালোচনা ও ধর্মচিন্তা করে দিন অতিবাহিত করব।'

উপোসথের প্রকারভেদ

অনুসরণ রীতি ও সময় অনুসারে উপোসথ পাঁচ প্রকার। যথা: ১. প্রতিজাগর উপোসথ, ২. গোপালক উপোসথ, ৩. নিগ্রন্থ উপোসথ, ৪. আর্য উপোসথ এবং ৫. প্রতিহার্য উপোসথ।

১. প্রতিজাগর উপোসথ সার্বক্ষণিক সজাগ থেকে অত্যন্ত, সচেতন ও যত্নের সঙ্গে অষ্টশীল পালন করার নাম প্রতিজাগর উপোসথ। উপোসথে উপোসথিককে রাতে ঘুমের সময় ছাড়া অন্য সময় প্রতিটি নিয়ম যথাযথভাবে পালন করতে হয়। এরূপ শীল গ্রহণকারীগণ উপোসথের দিন ছাড়া অন্যান্য দিনেও উপোসথ পালন করেন।

২. গোপালক উপোসথ যে উপোসথ গ্রহণকারী ধর্মচিন্তা বাদ দিয়ে খাদ্য, ভোজ্য, অভাব অনটন বিষয়ে চিন্তা করে তাকে গোপালক উপোসথ গ্রহণকারী বলে। গরু পরিচর্যাকারী রাখাল যেমন পরের গরু নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকে, তেমনি এরূপ উপোসথ গ্রহণকারীগণও করণীয় কর্ম না করে অসার ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আলাপ করে সময় নষ্ট করে। এটি অত্যন্ত নিম্নস্তরের উপোসথ।

৩. নিগ্রন্থ উপোসথ: নিগ্রন্থ অর্থ গ্রন্থহীন অর্থ্যাৎ নগ্ন। গৌতম বুদ্ধের সময় একরকম নগ্ন সন্ন্যাসী ছিলেন। তাঁরা যে উপোসথ গ্রহণ করতেন তাঁর নাম নিগ্রন্থ উপোসথ। তাঁরা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতেন। প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকলেও নিজেদের প্রয়োজনে তাঁরা প্রাণিহত্যা করতেন। এতে কোনো পাপ হয় না বলে তাঁরা অভিমত পোষণ করতেন। এরূপ আসক্তচিত্তে উপোসথ পালনকে নিগ্রন্থ উপোসথ বলা হয়।

৪. আর্য উপোসথ: আর্য শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠ। এই উপোসথই শ্রেষ্ঠ উপোসথ। বুদ্ধ এই মহান উপোসথ ব্রতই প্রবর্তন করেছিলেন। বুদ্ধের শ্রাবকগণ এই উপোসথ পালন করতেন। আর্য উপোসথ গ্রহণকারীগণ উপোসথ গ্রহণ করে জাগতিক সুখ ভোগের চিন্তা ত্যাগ করেন। তাঁরা বুদ্ধানুস্মৃতি, ধর্মানুস্মৃতি, শীলানুস্মৃতি ও মৈত্রী ভাবনায় রত থেকে উপোসথব্রত পালন করেন। সকলের আর্য উপোসথ গ্রহণ ও পালন করা উচিত। অর্থাৎ অকৃত্রিমভাবে সশ্রদ্ধচিত্তে সকল নিয়ম অনুসরণ করে উপোসথ পালনই আর্য উপোসথ।

৫. প্রতিহার্য উপোসথ বছরের কিছু সময় নির্দিষ্ট করে নিয়মিত উপোসথ পালনকে প্রতিহার্য উপোসথ বলে। এরূপ উপোসথ বিভিন্ন রকম হয়। ১. আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস প্রতিদিন উপোসথ পালন করাকে বলে উৎকৃষ্ট প্রতিহার্য উপোসথ। ২. আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত কিংবা ৩. আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে পরবর্তী পনের দিনব্যাপী প্রতিদিন উপোসথ পালন করাকে হীন প্রতিহার্য উপোসথ বলে। এই তিন উপোসথের যেকোনো এক রকম উপোসথ পালন করা খুব পুণ্যের। এগুলোকে প্রতিহার্য উপোসথ বলে।

গৃহীরা উপোসথ গ্রহণ করে বিহারে বসে ধ্যান-সমাধি চর্চা করছেন।

উপোসথ পালনের সুফল

ত্রিপিটকের বহু স্থানে উপোসথব্রত পালনের সুফল বর্ণিত আছে। তাতে বলা হয়েছে, চন্দ্র-সূর্যের কিরণ পৃথিবীর অন্ধকার দূরীভূত করে। এজন্য চন্দ্র-সূর্যকে প্রাণী জগতের জীবন বলা হয়। কিন্তু উপোসথ শীলের গুণের সঙ্গে তুলনা করলে চন্দ্র-সূর্যের গুণ অতি সামান্য। পৃথিবী ও সাগরের সমস্ত সম্পদ, হীরা ও মণিরত্ন অষ্টাঙ্গ উপোসথ শীলের তুলনায় তুচ্ছ। এমনকি দেবতাদের ঐশ্বর্যও এর কাছে নগণ্য। স্বর্গীয় আনন্দ উৎকৃষ্টতর হলেও ক্ষণস্থায়ী কিন্তু উপোসথ শীলের দ্বারা অর্জিত আনন্দ অবিনশ্বর ও চির শান্তিদায়ক। উপোসথ শীলের অনাবিল শান্তিময়ী দীপ্তি চন্দ্র, সূর্য, হীরা-মণি-মুক্তার উজ্জ্বল প্রভা, দেবতার দিব্যজ্যোতি সবকিছুকেই পরাভূত করে। ফুলের সুগন্ধ বাতাসের অনুকূলে প্রবাহিত হলেও উপোসথ শীলের গুণ সৌরভ বাতাসের অনুকূল-প্রতিকূল এবং চতুর্দিকে প্রবাহিত হয়।

একসময় তাবতিংস স্বর্গের রাজা দেবরাজ ইন্দ্র অন্যান্য দেবতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, 'হে দেবতাগণ! তোমরা যদি আমার মতো ইন্দ্র হতে ইচ্ছা কর তাহলে পূর্ণিমা, অষ্টমী ও অমাবস্যায় আট অঙ্গের উপোসথ শীল পালন কর।

আর এর চেয়েও যারা পুণ্যকামী তারা প্রতিজাগর, প্রতিহার্য উপোসথ পালন কর। এভাবে তোমরা নিজেকে সম্যক পথে পরিচালিত কর।'

দেবরাজ ইন্দ্র আরও বলেছেন; 'যে গৃহী নিজের স্ত্রী-পুত্রের ভরণপোষণ করেন, যিনি পুণ্যবান ও শীলবান এবং ত্রিরত্নের উপাসক, তাঁকে আমি নমস্কার করি, আমরা জানি দেবতারা উচ্চ মার্গের সত্ত্বা হলেও সম্পূর্ণ মুক্ত নন। তাঁদের মধ্যে রাগ, দ্বেষ ও মোহ আছে। তবে তাঁরা দিব্য চোখে মানুষের পুণ্য ও অপুণ্য দেখতে পান। মানুষের মধ্যে যারা সৎভাবে জীবনযাপন করেন, বড়দের ভক্তি ও শ্রদ্ধা করেন, মাতাপিতার উপযুক্ত ভরণপোষণ করেন, উপযুক্ত সময়ে উপোসথ পালন করেন তাঁদের উন্নতিতে দেবতারা প্রশংসা করেন। স্বয়ং ইন্দ্র তাঁদের শ্রদ্ধা করেন।'
মহাকারুণিক বুদ্ধ প্রবর্তিত মহামূল্যবান আট অঙ্গের উপোসথ শীল মহাফলদায়ী। তাই উপোসথ শীল আমাদের সঠিকভাবে পালন করা উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
গৃহী উপোসথিকের করণীয়সমূহ চিহ্নিত কর। উপোসথের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...